মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে আগামী মাসে শুনানি
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও যানবাহনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে তথ্য চেয়েছে পেট্রোবাংলা। কোম্পানিগুলো থেকে দাম বাড়ানোর প্রাপ্ত তথ্য প্রস্তাব আকারে যাবে মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়ার পর শুনানি শুরু করবে বিইআরসি। আগামী আগস্ট মাসের যে কোন সময় গ্যাসের দাম নিয়ে শুনানি শুরু করতে পারে বিইআরসি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং পেট্রোবাংলার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ভর্তুকি থেকে বের হয়ে আসতে চায় পেট্রোবাংলা। যানবাহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম এবং বিতরণ কোম্পানির মার্জিন বাড়ানোর তোড়জোড় চলছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের এপ্রিলে নতুন শিল্পে ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা একই বছরের নভেম্বর সার উৎপাদনে প্রতি ঘনমিটার ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৯.২৫ টাকা করা হয়েছিল।
পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানায়, আমরা বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানি থেকে তথ্য চেয়েছি। ইতোমধ্যে কিছু কোম্পানির তথ্য চলে এসেছে। সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য প্রেরণ করা হবে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়া গেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) প্রস্তাব প্রেরণ করা হবে।
সূত্র জানায়, পেট্রোবাংলা মুনাফা করতে চায় না , লোকসানেও থাকতে চায় না । ভর্তুকি থেকে বের হয়ে আসতে চায়। প্রাথমিকভাবে যানবাহনে ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। বাকিটা মন্ত্রণালয়ের নীতি সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে এলএনজি আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকহারে বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া গ্যাসের গড় ক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩১.৬৫ টাকা (প্রতি ঘনমিটার), আর বর্তমানে গড় বিক্রয়মূল্য রয়েছে ২৩.৬৩ টাকা, এতে করে প্রতি ঘনমিটারে ঘাটতি থাকছে ৮.০২ টাকার মতো। তবে ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী সংকট সব হিসাব পাল্টে দিয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম ৩ মাস (জানুয়ারি-মার্চ) যেখানে গড় ক্রয়মূল্য পড়েছে ২৭.৬৪ টাকা, সেখানে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর (এপ্রিল-জুন ২০২৬) গড় ক্রয়মূল্য উঠেছে ৪৫.৭৯ টাকায়। ওই ৩ মাস গড় বিক্রয়মূল্য ২৩.৬৩ টাকায় বিক্রি করায় প্রতি ঘনমিটারে ঘাটতি হয়েছে ২১.৮২ টাকা। এতে করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেট্রোবাংলার ঘাটতি হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বিপরীতে সরকার ভর্তুকি দিয়েছে ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। যা আগের বছরগুলো ছিল এক-তৃতীয়াংশ।
বিদেশ থেকে আমদানির পাশাপাশি বহুজাতিক কোম্পানি ও রাষ্ট্রীয় ৩টি কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস কিনে থাকে পেট্রোবাংলা। সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানিকে প্রতি হাজার ঘনফুটের দাম দেওয়া হয় ২৮ টাকার মতো, বাপেক্সকে দেওয়া হয় ১১২ টাকার মতো। শেভরন বাংলাদেশকে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম দেওয়া হয় ২.৭৬ ডলার (প্রায় ৩৩৬ টাকা) আর টাল্লোর সাথে চুক্তি রয়েছে ২.৩১ ডলার (প্রায় ২৮২ টাকা)। অন্যদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে কাতার থেকে আমদানি করা এলএনজির দাম পড়েছে ১০.৬৬ ডলার ও ওমান থেকে আনা এলএনজির দাম পড়েছে ১০.০৯ ডলার।
এক সময় দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে ২৮০০ মিলিয়ন পর্যন্ত গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। মজুদ কমে আসায় ১৬৫০ মিলিয়নে নেমে এসেছে দেশীয় উৎপাদন। বিদায়ী বছরে ৩০ শতাংশ গ্যাস আমদানি করা হয়েছে, দেশীয় উৎস থেকে যোগান এসেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। ২০৩০ সালে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ ৩০ শতাংশে নেমে আসবে, আর আমদানির অনুপাত বেড়ে ৭০ শতাংশ হবে বলে ধারণা করছে পেট্রোবাংলা।
দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া গ্যাসের গড় মূল্য দেখা যাচ্ছে ৬.০৭ টাকা, আর ৩০ শতাংশ চড়াদামে আমদানির পর দর দাঁড়াচ্ছে ৩১.৬৫ টাকা থেকে ৪৫.৭৯ টাকা। ৩০ শতাংশ আমদানি করতে গিয়েই দাম সামাল দেওয়া কঠিন হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে ৭০ শতাংশ আমদানির পর কি দাঁড়াবে সহজেই অনুমেয়।
১৯৯৫ সালের জ্বালানি নীতিমালায় বছরে ৪টি অনুসন্ধান কূপ খনন করার কথা বলা হয়। কিন্তু কোন সরকারেই সেই লক্ষ্যমাত্রার ধারের কাছেও ঘেষতে পারেনি। যে কারণে গ্যাস খাতের অবস্থা অনেকটা বেসামাল বলা যায়। সংকটের কারণে প্রায় সবধরনের গ্যাস সংযোগ বন্ধ বলা যায়। এতে করে থমকে রয়েছে শিল্পায়ন। আবার বিদ্যমান শিল্প ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধুকে ধুকে চলছে।
পেট্রোবাংলা যখন গ্যাসের দাম বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করেছে, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ও সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড তাদের বিতরণ মার্জিন বাড়ানোর প্রস্তাব গুছিয়ে এনেছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে কর্ণফুলীসহ একাধিক কোম্পানি তাদের প্রস্তাব পেট্রোবাংলায় প্রেরণ করেছে। কোম্পানিগুলো দাবি করেছে, বিতরণ মাশুল থেকে তাদের পরিচালন ব্যয় মিটছে না। কিছু কোম্পানি অপরিচালন আয় থেকে ব্রেক ইভেনে রয়েছে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ জানান , প্রতি ঘনমিটারে আমরা বিতরণ চার্জ পাই ২১ পয়সা। এই আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয় মেটে না, যে কারণে বিতরণ চার্জ বাড়ানো প্রয়োজন। আমরা বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করছি।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, প্রতি ঘনমিটারে ৩৭ পয়সা হার বিতরণ চার্জ থেকে আয় হয় ৬২ কোটি টাকার মতো। আর বছরে পরিচালন খরচ রয়েছে ২০০ কোটি টাকার উপরে। পে-স্কেল চালু হওয়ায় এই খরচ আরও বাড়ে যাবে। ক্রমাগত লোকসান দিতে থাকলে এক সময় আদমজী জুট মিলের মতো দেউলিয়া হয়ে যাবে বিতরণ কোম্পানিগুলো।
সাশ্রয়ী জ্বালানির খোঁজে
পিডিবির তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা (ইউনিট) বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ছিল গ্যাসে ৭ টাকা ৯ পয়সা, কয়লায় ১৩ টাকা ২০ পয়সা এবং তরল জ্বালানিতে (লিকুইড ফুয়েল) ২৭ টাকা ৩৯ পয়সা।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসের এই উৎপাদন খরচ মূলত দেশীয় গ্যাসের দামের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে চাহিদার একটি বড় অংশ এলএনজি দিয়ে মেটানো হচ্ছে। তাই এলএনজি আমদানির প্রকৃত খরচ ধরলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ পিডিবির দেখানো হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হবে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গতকাল তারা মোট ২ হাজার ৬১৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করেছে। এর মধ্যে ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট ছিল আমদানি করা এলএনজি। বিদ্যুৎ খাত পেয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।
দেশে বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য (রিকভারেবল) প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতের পরিমাণ ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। তবে দেশে প্রতিদিন গ্যাস সরবরাহে প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মন্ত্রী বলেন, আটটি গ্রাহক শ্রেণির অনুমোদিত গ্যাস লোডের ভিত্তিতে বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত গড়ে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৪৯৪ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১২ হাজার ১৯৪ মেগাওয়াট (৪৩%) গ্যাসভিত্তিক এবং ৭ হাজার ৬২৯ মেগাওয়াট (২৭%) কয়লাভিত্তিক। তবে পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে অনেক কেন্দ্রই পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না।
গ্যাসের চাপ কম থাকায় ধুঁকছে শিল্প প্রতিষ্ঠান
জ্বালানি সংকট তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল সিরামিক ও টায়ার থেকে শুরু করে ফুটওয়্যারসহ অন্যান্য শিল্প খাতও গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে রয়েছে। এতে যেমন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বেড়ে যাচ্ছে পরিচালনার ব্যয়ও।
রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান ফার সিরামিকসের একজন কর্মকর্তা বলেন, দিনের বেলা তার কারখানায় গ্যাসের চাপ অনেক সময় ১ পিএসআইয়েরও নিচে নেমে যায়। তবে রাতের বেলা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়ে তা ১০ পিএসআইয়ের কাছাকাছি পৌঁছায়। ‘আমরা তো আর উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারি না। বাধ্য হয়ে মেশিন সচল রাখতে চড়া দামের এলপিজি বা সিএনজি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন আমাদের আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে।
মেঘনা গ্রুপের টায়ার বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, তাদের শ্রীপুরের কারখানার জন্য অনুমোদিত গ্যাসের লোড বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছিল এক দশকেরও বেশি সময় আগে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আবেদনটি অনুমোদন করার জন্য তিতাসকে সুপারিশ করলেও এত দিন আজও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
সরবরাহ হ্রাস
তিতাস গ্যাস তাদের ওয়েবসাইটে স্বীকার করেছে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে তাদের আওতাধীন কিছু এলাকার গ্রাহকেরা গ্যাসের চাপ কম থাকার সমস্যায় পড়ছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত এই বিতরণ কোম্পানি বলছে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন হ্রাস ও আমদানি করা এলএনজির ঘাটতিই এই সমস্যার মূল কারণ। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে সৃষ্ট অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে।
২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তিতাসের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ২৭ লাখ ৮০ হাজার, যার মধ্যে শিল্প খাতের গ্রাহকের সংখ্যা ৫ হাজার ৬৭৩।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে শিল্প গ্রাহকদের প্রতি মাসে ৪,৩৩০ এমএমসি গ্যাস সরবরাহ করা হলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ৩,৭৩৭ এমএমসিতে দাঁড়িয়েছে। এই সময়ে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও সরবরাহ মাসিক ৪,৬৭২ এমএমসি থেকে কমে ৩,৯৮৯ এমএমসি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিতাসের একজন কর্মকর্তা বলেন, এরপর থেকে শিল্পকারখানা ও ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ প্রতি মাসে আরও ৩০০ এমএমসি কমেছে। এতে এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
গ্যাসের চাপ কেন গুরুত্বপূর্ণ
গ্যাস ইঞ্জিন ও বয়লার নির্ভরযোগ্যভাবে চালানোর জন্য সাধারণত ৮-১০ পিএসআই গ্যাস চাপের প্রয়োজন হয়। আর এগুলোকে পূর্ণ ক্ষমতায় চালিয়ে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে ১২-১৫ পিএসআই চাপ দরকার। গ্যাসের চাপ ৭-৮ পিএসআইয়ের নিচে নেমে গেলে ইঞ্জিন শক্তি হারাতে শুরু করে বা বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া বয়লার পর্যাপ্ত বাষ্প তৈরি করতে পারে না; ফলে উৎপাদন ক্রমশ ব্যাহত হতে থাকে।
২-৫ পিএসআই চাপে বেশিরভাগ বড় কারখানার পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র আর পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে না, ডাইং ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার জন্য বয়লার প্রয়োজনীয় বাষ্প তৈরি করতে ব্যর্থ হয় এবং বাধ্য হয়ে অনেক কারখানাকে উৎপাদন কমাতে বা কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়।
উৎপাদনকারীরা বলছেন, সারাদিন ধরে গ্যাসের চাপের তীব্র ওঠানামা এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। পিক আওয়ারে (ব্যস্ত সময়ে) অনেক কারখানা মাত্র ২-৩ পিএসআই গ্যাস পায়, যা তাদের যন্ত্রপাতির জন্য নির্ধারিত নুন্যতম প্রয়োজনীয় চাপের চেয়ে অনেক কম। ফলে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায় বা বন্ধ হয়ে পড়ে এবং কারখানার ভেতরের আর্দ্রতা বজায় রাখা ও প্রসেসিংয়ের জন্য বাষ্পের সরবরাহ অপর্যাপ্ত হয়ে যায়। এতে স্পিন্ডলের গতি ও উৎপাদন সক্ষমতা কমে যায় এবং কারখানাগুলো বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল ডিজেল বা সিএনজিচালিত জেনারেটরের দিকে ঝুঁকলে পরিচালনা ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়।
বাসা বাড়িতে গ্যাস সংকট
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাসের সংকট যেন নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সকাল ও দুপুরে যখন রান্নার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনই বেশিরভাগ এলাকায় গ্যাস থাকে না, বা থাকলেও চাপ থাকে একেবারেই কম, যা দিয়ে রান্না চলে না।। ফলে অনেক পরিবারকে গভীর রাতে কিংবা ভোরে উঠে রান্না করতে হচ্ছে, আবার কেউ কেউ বাধ্য হচ্ছেন খাবার কিনে খেতে। নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও স্বাভাবিক সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা।