আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, শিক্ষাবিদ ও সংগঠক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, "জনগণের সেবাই হবে আমার প্রথম অগ্রাধিকার। শিক্ষা, সততা, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণকে ভিত্তি করে একটি আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব শ্রীপুর গড়ে তুলতে চাই। নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে উপজেলার প্রতিটি মানুষের কল্যাণে কাজ করব।"
শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ৮টার দিকে দৈনিক সংগ্রামকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
দৈনিক সংগ্রামকে আবুল কালাম আজাদ বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষকতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রত্যাশা ও সমস্যার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই তিনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন।
তিনি বলেন, "ভাইস চেয়ারম্যান পদকে আমি শুধু একটি জনপ্রতিনিধির পদ হিসেবে দেখি না; এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি বড় দায়িত্ব। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।"
দৈনিক সংগ্রামকে তিনি জানান, নির্বাচিত হলে যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার শিক্ষা, ড্রাইভিং ও বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করবেন। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তির বিষয়ে সহযোগিতা করবেন।
মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটানো হবে। যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সামাজিক উদ্যোগ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষা খাত সম্পর্কে দৈনিক সংগ্রামকে আবুল কালাম আজাদ বলেন, শিক্ষা খাত তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। তিনি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ প্রদানে সহযোগিতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণ, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী রোধ এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানান।
স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রামীণ মানুষের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান উন্নয়নে কাজ করবেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, গর্ভবতী মা ও শিশুদের বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবা আরও সহজলভ্য করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সমন্বয় করে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্ট্রিট লাইট স্থাপনে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
দৈনিক সংগ্রামকে তিনি আরও বলেন, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে স্বচ্ছভাবে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। পাশাপাশি বাল্যবিয়ে, নারী নির্যাতন ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
তিনি বলেন, "আমার কার্যালয় সবসময় জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করব।"
সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন ও কর্মজীবনের বিষয়ে দৈনিক সংগ্রামকে আবুল কালাম আজাদ জানান, তিনি ১৯৭৮ সালের ১ জানুয়ারি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বিন্দুবাড়ী (জিওসি) গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মো. নূরুল ইসলাম মোল্লা।
তিনি ১৯৮৬ সালে বিন্দুবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৯২ সালে ভাংনাহাটী রহমানিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং ১৯৯৪ সালে আলিম পাস করেন। এরপর কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে ১৯৯৭ সালে স্নাতক (অনার্স) এবং ১৯৯৮ সালে স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০০১ সালে তিনি শ্রীপুর উপজেলার বরামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। শিক্ষকতায় নিষ্ঠা ও সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। কর্মজীবনে একাধিকবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবেও সম্মানিত হয়েছেন। ২০২২ সালের ৫ মার্চ থেকে তিনি বরামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর উপজেলা সেক্রেটারি এবং বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কারণে এলাকায় তিনি একজন পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষকতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তাঁকে একজন দায়িত্বশীল নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা ভোটারদের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারের শেষদিকে দৈনিক সংগ্রামের মাধ্যমে শ্রীপুর উপজেলার ভোটারদের উদ্দেশে আবুল কালাম আজাদ বলেন, "আমি প্রতিশ্রুতির রাজনীতি করতে চাই না; কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই। জনগণ যদি আমাকে তাদের সেবার সুযোগ দেন, তাহলে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে একটি উন্নত, মানবিক ও সমৃদ্ধ শ্রীপুর গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।"