জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কুষ্টিয়ার আমবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ৯ বছরেও চালু হয়নি। ইউপি কমপ্লেক্স ভবনটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। ভবনটি চালু না হওয়ায় অনেক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জানা যায়,জনগণের সেবার মান বাড়াতে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মিত হয়। দীর্ঘ ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও তা চালু করা হয়নি। ইউনিয়নের জনবহুল কেন্দ্র থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নির্জন স্থানে নির্মিত ভবনটির প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। চারপাশ আগাছায় ভরে গেছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের দরজা-জানালার বিভিন্ন অংশ চুরি হয়েছে, ছাদের টালি খসে পড়ছে এবং দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। ফলে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি স্থাপনাটি ধীরে ধীরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তৎকালীন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল বারী টুটুল ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় এলাকা বাদ দিয়ে ব্যক্তি স্বার্থে নিজের গ্রামের পাশেই ভবনটির স্থান নির্ধারণ করেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা তুলে জমি কেনা হয় এবং প্রভাব খাটিয়ে সেখানে প্রকল্পের অনুমোদন নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পুরোনো ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ দেখিয়ে নতুন কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবি, পুরোনো ভবন সংস্কার করেই দীর্ঘদিন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব ছিল। পরিবর্তে দুর্গম ও নিরাপত্তাহীন স্থানে নতুন ভবন নির্মাণ করায় সেটি আর ব্যবহার করা যায়নি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে বসুন্ধরা এন্টারপ্রাইজ ৯৭ লাখ ২৭ হাজার ১৩৮ টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে।

তবে নির্মাণ শেষে ভবনটি বুঝে নিতে অস্বীকৃতি জানান তৎকালীন চেয়ারম্যান (বর্তমানে সাবেক চেয়ারম্যান) মশিউর রহমান মিলন। তার অভিযোগ, ভবন নির্মাণে নানা ত্রুটি ছিল এবং অবস্থানও নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ। পরবর্তীতে দায়িত্বে আসা চেয়ারম্যানরাও একই কারণে ভবনটি চালু করেননি।

সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন বলেন, নিজের সুবিধার জন্য সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল বারী টুটুল নিজ এলাকার পাশে ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন। এছাড়া নির্মাণকাজেও বিভিন্ন ত্রুটি ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি ভবনটি বুঝে নেননি।

তার ভাষ্যমতে, নির্জন ও সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকায় জনগণের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় ভবনটি চালু করা সম্ভব হয়নি। পুরোনো ভবন সংস্কার করেই পরিষদের কার্যক্রম চালানো যেত।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে ভবনটি কোনো সরকারি কাজে ব্যবহার না হলেও রাতের বেলায় সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে এবং বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। দিনের বেলায় ভবনের ভেতর ও আশপাশে গরু-ছাগল অবাধে বিচরণ করে।

অন্যদিকে, নতুন ভবনটি অচল থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদের সব কার্যক্রম এখনো পুরোনো জরাজীর্ণ ভবন থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। যে ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ দেখিয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল, সেই ভবনেই প্রতিদিন নাগরিক সেবা নিতে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের মতে, পুরোনো ভবনটি ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় সেখানে যাতায়াতও সহজ।

এ বিষয়ে এলজিইডির মিরপুরের সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী জহীর মেহেদী হাসান বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে, ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে নয়। তবে ওই এলাকায় নিরাপত্তাজনিত সমস্যা রয়েছে, সেটি সত্য।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটি দীর্ঘ নয় বছর নির্মিত হলেও তা চালু হয়নি। আমবাড়িয়া ইউনিয়নের মূল কেন্দ্র হালসা বাজার থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরে নির্মাণ করায় সন্ত্রাসকবলিত এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার কথা ভেবে সেখানে কেউ যান না।

তাই কমপ্লেক্স ভবনটি পরিত্যক্ত থেকেই গেল। পরিষদের কোন কার্যক্রম না থাকায় সেখানে সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রমে পরিনত হয়েছে। মাদকসেবীদের আড্ডা খানায় রুপ নিয়েছে। বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। তাই অপরাধ কর্মকাণ্ড বন্ধে ও জনগণের সেবার মান বাড়াতে দ্রুত কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটি চালুর দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।