জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে যশোরে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে একটি গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশ ও গণ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর-বসুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এ আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে সব হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর নয়। আইন ও সংবিধানের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক গোলাম রসুল আরও বলেন, শহীদ ওসমান হাদীসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদ এবং আহতদের ঘটনায় দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার এগিয়ে নেওয়া এবং জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থ, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

গণমিছিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর যশোর জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, মাওলানা রেজাউল করিম, শামসুজ্জামান, মনিরুল ইসলাম, প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আবুল হাসিম রেজা, জাতীয় নাগরিক পার্টির যশোর জেলা আহ্বায়ক নুরুজ্জামান, শহর আমির মাওলানা ইসমাইল হোসেন, পেশাজীবী থানার সভাপতি খন্দকার রশিদুজ্জামান রতন, সেক্রেটারি আবু ফয়সালসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা এবং গণঅভ্যুত্থানের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার কার্যকর করা সময়ের দাবি।

সমাবেশ শেষে একটি শান্তিপূর্ণ গণমিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।