গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাংগাবাড়ি সীমান্তের শূন্যরেখায় টানা কয়েকদিন ধরে আটকে থাকা ২৮ জন মানুষের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। ঝড়-বৃষ্টি, বৈরী আবহাওয়া ও মানবেতর দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটানোর পর অবশেষে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন ভোরে বিএসএফ বাংগাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সীমান্তে সতর্ক নজরদারির কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে তারা সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

গত কয়েকদিন ধরে চলমান ঝড়-বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুদের খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে হয়। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব, খাদ্য ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধার সংকটে তাদের মানবিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি করে।

ঘটনার পর থেকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একাধিকবার পতাকা বৈঠক এবং কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রথমদিকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে সীমান্তে আটকে থাকা ব্যক্তিদের অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হয়।

অবশেষে শুক্রবার বৈঠক ও যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় বিএসএফ তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে কয়েকদিন ধরে চলা অচলাবস্থার অবসান ঘটে এবং সীমান্ত এলাকায় সৃষ্ট উত্তেজনাও প্রশমিত হয়।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে সার্বক্ষণিক সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদস্যরা প্রস্তুত ছিলেন। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণেই পুশ-ইনের প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা ২৮ জনের ঘটনাটি আবারও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সংকটের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। কয়েকদিনের অনিশ্চয়তা, ঝড়-বৃষ্টি আর দুর্ভোগের পর তাদের সরে নেওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সীমান্ত এলাকায়। তবে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কয়েকদিন আগে যেখানে শূন্যরেখাজুড়ে ছিল উৎকণ্ঠা, অনিশ্চয়তা ও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা, সেখানে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সীমান্তের সেই বৃষ্টিভেজা কয়েকটি দিন ২৮ জন মানুষের জীবনে এক তিক্ত ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।