জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবনের ১২ তলার সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। আলোচক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজিই বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মহিউদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন কমিটি-২০২৬-এর সদস্য-সচিব ও পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. দেলোয়ার জাহান মলয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন কমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির।

এছাড়াও বক্তব্য দেন, শহীদ আহনাফ আবীর আশরাফুল্লাহর বড় বোন অ্যাডভোকেট সাঈদা আক্তার। কর্মকর্তা প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন আজাদ খান ভাসানী। শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন জামিল হোসেন, ইমরান হোসেন নাদভী, আশরাফুল আলম হৃদয়, মেহেদী হাসান রাকিব, রাহাদুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম ও সমাপ্তি খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় জীবনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে এই আন্দোলনের শিক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনো ফ্যাসিস্টের জন্ম নিতে দেওয়া হবে না। জুলাই আমাদের কাজ করার এবং পরিবর্তনের সুযোগ করে দিয়েছে। বর্তমান সরকারকে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গণমানুষের পক্ষে কাজ করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়; এটি মূল্যবোধ, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশেরও কেন্দ্র। শিক্ষার্থীদের মুক্তচিন্তা, যুক্তিবোধ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আলোচনা সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের আত্মত্যাগকে জাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

প্রধান আলোচক অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, “জুলাই আমাদের কারও একার অর্জন নয়; এটি আমাদের সবার অর্জন। জুলাই আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছে। যারা অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানাব। জুলাই কোনো দল, বর্ণ বা ধর্মের নয়; এটি সমগ্র জাতির। ক্ষমতার লোভে এ গণঅভ্যুত্থান হয়নি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন থাকতে হবে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে; অন্যথায় ক্ষমতাসীনরা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। শহীদরা যে বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, আমাদের সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”

আলোচনা শেষে অতিথিবৃন্দ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের পক্ষে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আহত চারজন গেজেটভুক্ত শিক্ষার্থী—মো. ফোরকান হোসেন, ইমরান হোসেন নাদভী, আশরাফুল আলম হৃদয় ও মেহেদী হাসান রাকিব এবং আন্দোলনে অবদান রাখায় সিনিয়র ড্রাইভার আয়নাল হোসেন ও মো. জাহিদুল ইসলামকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

আলোচনা সভায় শহীদ আহনাফ আবীর আশরাফুল্লাহর মা-সহ তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে গণআন্দোলনের চেতনা ও দেশপ্রেম জাগ্রত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।