সংসদ রিপোর্টার
দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, প্রান্তিক কৃষক এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমান সরকারের পর্যায়ক্রমিক সকল কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা একটি একক কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’। জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ এবং রাষ্ট্র উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য দেওয়া বিশেষ কার্ডের মতো সুযোগ-সুবিধাগুলো জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের কোনো করুণা বা দয়া নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতে আলাদা আলাদা সকল কার্ডের সমন্বয়ে এই সার্বজনীন বা ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয় ও কার্ডে সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
দেশের কৃষিখাত ও প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার ও যন্ত্রণার কথা বিশদভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজেই একজন কৃষকের সন্তান হিসেবে স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই দেশের অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব। সে কারণেই বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের আপামর কৃষকদের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রতিশ্রুতিটি ছিল, যদি দলটি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হয়, তবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া থাকা সকল কৃষকের কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে সংসদকে অবহিত করে বলেন, সরকার গঠন করার পর প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রথম ও প্রধান সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লক্ষ প্রান্তিক কৃষক, যাদের ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল, তাদের সুদসহ সম্পূর্ণ বকেয়া ঋণ সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো কাগুজে পরিকল্পনা নয়, বরং ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে এর সুফল কৃষকরা ভোগ করতে শুরু করেছেন। সরকার পরিচালনার মূল লক্ষ্যই যে দেশের সাধারণ মানুষ, এই পদক্ষেপ তারই চাক্ষুষ প্রমাণ।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচির গুরুত্ব এবং এই প্রক্রিয়ায় দেশের সকল রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি সংসদকে জানান যে, গতকাল যখন একজন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে তার নিজ এলাকায় কবে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে তা জানতে চান, তখন তিনি অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। ফ্যামিলি কার্ডের মতো কল্যাণমুখী সামাজিক পলিসিকে সমর্থন জানানোর জন্য তিনি বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধী দলের সকল সংসদ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু যখন দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের কথা আসে, তখন সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি এবং বিদেশী তাবেদারি রুখতে হলে রাষ্ট্র এবং দেশের জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই শক্তিশালীকরণের প্রথম ধাপই হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা।
দেশের ঋণ নির্ভর অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়ে একটি টেকসই বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের বিস্তারিত রূপরেখাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। যেখানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকেই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। সরকার কেবল যুবসমাজকে ঘরে বসিয়ে না রেখে দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনশক্তিকে সম্পদে রূপান্তর করতে চায়। এই লক্ষ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লক্ষ, ব্লু ইকোনমি ও ইকোটুরিজম খাতে আরও ১০ লক্ষসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে পর্যায়ক্রমে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এছাড়াও যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদানুযায়ী গড়ে তুলতে দেশজুড়ে বিভিন্ন ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশ রক্ষায় একটি বিশাল সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী পাঁচ বছরে স্বেচ্ছাশ্রম এবং সরকারি উদ্যোগে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বা সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক সুবিশাল মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যার সফল বাস্তবায়নে প্রতিবছর গড়ে ৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। এই প্রকল্পের সফলতার জন্য দেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার, যার মাধ্যমে নতুন করে আড়াই লক্ষ তরুণ-তরুণীর বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি পরম শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
একই সঙ্গে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নির্বাচনের পূর্বে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার অক্ষরে অক্ষরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগসহ প্রতিটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব দরবারে শক্তিশালী হবে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড
দেশে আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন ও সংযোজনে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে সরকার যুগোপযোগী শুল্ক সুবিধা প্রদান করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেক্টরে স্থানীয় শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড বিশ্ব দরবারে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে সুলতানা আহমেদের (৩১৭ মহিলা আসন-১৭) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, অল-ইন-ওয়ান পিসি, নোটবুক, নোটপ্যাড, ট্যাব, সার্ভার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, রাউটার, নেটওয়ার্ক ডিভাইস, মনিটর, ডিজিটাল ওয়াচ ও মোবাইল ইত্যাদি প্রযুক্তি পণ্য দেশে উৎপাদন ও সংযোজনের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এই খাত বিপুল পরিমাণ বৈদেশীক বিনিয়োগ আকর্ষণেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ছাঁটাই করে প্রকৃত তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে
জাতীয় সংসদে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নিখুঁত, নির্ভুল ও সর্বজনগ্রাহ্য তালিকা প্রণয়নের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, নিবিড় গবেষণার ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের বিশিষ্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভার আয়োজন এবং বিভিন্ন অংশীজনদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি বিস্তারিত ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। সরকার মনে করে, এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমেই মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার শিকার ব্যক্তি ও সকল শহীদের আত্মত্যাগের যথাযোগ্য স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান করা সম্ভব হবে।
সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলাল এর করা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান।
এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দ্বারা গঠিত। যেহেতু একজন সম্মুখ সমরের বীর মুক্তিযোদ্ধার আদর্শে এই দল পরিচালিত, তাই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও দায়িত্ব প্রদর্শনকে সরকার একটি পবিত্র কর্তব্য বলে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে। অতীতের সরকারগুলোর আমলে তালিকা প্রণয়নে নানা জটিলতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি তৈরি হলেও, বর্তমান সরকার দেশের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে একটি পূর্ণাঙ্গ, সঠিক ও ঐতিহাসিক সত্যভিত্তিক মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।
চ-১ (এ) ১৫-০৭-২০২৬
সংসদকে মানুষের আস্থার চাবিকাঠিতে পরিণত করার আহ্বান
দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে
-সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা
সংসদ রিপোর্টার
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অর্থমন্ত্রী একজন গতিশীল মানুষ এবং তিনি চাইলে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। তবে এর জন্য দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে বলেছেন দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবেন, সেখানে তিনি পরামর্শ দেন আপাতত দুর্নীতির হাত চেপে ধরুন এবং হাতকড়া পরিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন, যাতে আর কেউ জনসম্পদ লুটের সাহস না পায়। তিনি সংসদকে দেশের মানুষের হতাশা দূর ও আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে বর্ণনা করেন। একইসঙ্গে তিনি স্পিকারের অভিভাবকত্বকে আরও বলিষ্ঠ করার অনুরোধ জানান এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় রোধ, সুষম উন্নয়ন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের নীতিগত ও কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেন।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন বিরোধীদলীয় নেতা। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
জাতীয় সংসদের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী এবং আমরা এটিকে মজলুমের মিলনমেলা বলে বিশ্বাস করি। এই সংসদের কার্যক্রম যত বেশি সুন্দর ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলবে, দেশের মানুষের মন থেকে হতাশা তত বেশি দূর হবে, তাদের আস্থা ও ভরসা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশ গড়ার মহৎ কাজে তারা অনুপ্রাণিত হবে। সংসদের অভিভাবক হিসেবে আপনার জায়গাটা আরও সুদৃঢ় দেখতে চাই। সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি ও নীতিমালার পরিপালন নিশ্চিত করতে স্পিকারকে একজন বলিষ্ঠ কমান্ডারের ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান তিনি।
বাজেট ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সম্প্রতি একটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে পাস হয়েছে, যা দেশের স্বার্থে, বেকারত্ব দূরীকরণে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জরুরি ছিল। কিন্তু বিলটির ওপর মনের মতো করে বিস্তারিত আলোচনা ও অংশগ্রহণ করার সুনির্দিষ্ট সুযোগ থেকে বিরোধী দল বঞ্চিত হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা না রেখে বিরোধী দলের সদস্যদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। অন্যথায় সংসদে বসা এবং জনগণের অর্থ ও সময়ের অপচয় ছাড়া আর কোনো উপকারে আসবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে একই সাথে আমরা আরও ৫০ জন সংসদ সদস্যকে পেয়েছি সংরক্ষিত আসনে। আমরা তাদেরকে প্রথম দিনই অভিনন্দিত করেছি। আমরা একসাথে সবাই মিলেই দেশটা গড়তে চাই। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম, বিরোধী দলের এমপিরা যে সমস্ত আসনে আছেন, সেখানে সরকারি দলের সংরক্ষিত আসনের সদস্যদেরকে অধিকতর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এইটা কী আমি বুঝলাম না। আমাদের সাথে তো কোনো আলোচনা করা হয়নি। অবশ্যই তারা ভূমিকা পালন করবেন, তাদের ক্ষেত্র থাকতে হবে। তারা একেকজন ছয়টা করে আসনের প্রপোরশনেটলি এসেছেন, ছয় জায়গার তারা প্রতিনিধিত্ব করবেন কোনো সমস্যা নাই। সেটা তো একটা আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে হতে পারত। আমাদেরকে আমাদের প্রাপ্যের বেশি তো আর আসন দেওয়া হয়নি। আমরা যে ১৩টা পাওয়ার কথা সে ১৩টাই পেয়েছি। আমাদের আসনগুলোতে এ ১৩ জনকে যদি আমরা কাজে লাগাই, আমাদের সমন্বয় সহযোগিতাটা হবে ওয়ান্ডারফুল। এখানে কোনো কনফ্লিক্ট হবে না, ফ্রিকশন হবে না। কিন্তু যদি আমাদের লোকদেরকে দেয় সরকারি দলের ওখানে সদস্যা যারা আছেন, আর সরকারি দলের সদস্যরা যদি করেন আমাদের এইখানেÑকনফ্লিক্ট হবে, হচ্ছে, তৈরি হয়ে গেছে। এই সংসদে যখন এই কনসার্নটা আনা হয়েছে, তখন একজন সম্মানিত মাননীয়মন্ত্রী বলেছেন যে ওইরকম কোনো অ্যারেঞ্জমেন্ট করা হয় নি। কিন্তু এই সংসদেই দাঁড়িয়ে একজন সংসদ সদস্যÑসংরক্ষিত আসনের, তিনি বলেছেন যে আমার অধিকতর দায়িত্ব এই এই জেলায় আমি পালন করে এসেছি। এখানে দুইটা বক্তব্য মিলছে না এবং বাস্তবে তাই দেখছি।
তিনি আরো বলেন, আমরা এই সংসদে প্রথম দিন অনুরোধ করেছিলাম যে অতীতের খারাপ সংস্কৃতি থেকে আমরা বের হয়ে আসব। এখানে আমরা অবশ্যই সমালোচনা করব, কিন্তু এইটা হবে সংসদের ব্যাকরণকে অনুসরণ করেÑএটাকে লঙ্ঘন করে না। আলহামদুলিল্লাহ, আমি প্লীজড। আমি পার্শিয়ালি কনভিন্সড। যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। কিন্তু কিছু কিছু ভাইরাস এখনো আমাদের মাঝে ক্রিয়াশীল আছে। এটাও দূর হয়ে যাক দোয়া করি। আমাদেরকে অনেক কিছু বলা হচ্ছে। বিভিন্ন দিক থেকে আমাদেরকে নেগেটিভলি ক্রিটিসাইজ করা হচ্ছে যে আপনারা এত ভদ্র কেন? এত পজিটিভ কেন? এত নমনীয় কেন? আপনারা গরম করতে পারেন না? গরম করার জন্য তো চুলা আছে, এটাকে গরম করে কী করব? কিছু পাস করতে হলে চুলায় বসাব, এখানে কেন? এটা যুক্তিবুদ্ধির, আইনের জায়গা । বিধি অনুসরণের জায়গা এইটা। আমরা এটা করেই এখানে চলি। তবে এটা একতরফা হবে না।
তিনি আরো বলেন, স্বাভাবিকভাবেই একতরফার সদিচ্ছায় কিছু হবে না। এখানে সকলের সদিচ্ছা থাকতে হবে। এ সদিচ্ছার ক্ষেত্রটা তৈরি করা আমাদের সকলের পবিত্র নৈতিক দায়িত্ব। আসুন না, আমি আবারও বলি যে একটা পার্লামেন্ট এমন করি, যেই পার্লামেন্টে যুক্তি থাকবে, একে অন্যের সমালোচনা থাকবে, কিন্তু এটার মধ্যে আমরা যেন সীমা লঙ্ঘন না করি। কাউকে পেইন দেওয়া, খোঁটা দেওয়াÑঅবভিয়াসলি আপনি যখন একজনকে পেইন দিবেন, অন্তত সমপরিমাণ পেইন সহ্য করার জন্য আপনাকেও প্রস্তুত থাকতে হবে। এটা তো কোনো ভালো জিনিস হতে পারে না। আমদের এই কালচারটা ত্যাগ করে এখান থেকে বের হয়ে আসা উচিত।
সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যায়, ভূমিধসে ও পানিতে ডুবে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। এবারের বন্যায় চারটি বিভাগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চট্টগ্রামের ক্ষয়ক্ষতি ছিল সবচেয়ে বেশি। নিহতদের পরিবারকে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজধানী ঢাকার নাজুক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই ঢাকা শহর ময়লা ও ড্রেনের পানিতে ভেসে যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ময়লা পানি অনেক সময় সুপেয় পানির লাইনের সঙ্গে মিশে পানি দূষিত করছে। ঢাকাকে দেশের ‘চেহারা’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, বিদেশী অতিথিরা যখন বাংলাদেশে আসেন, তখন ঢাকা দেখেই তারা পুরো দেশ সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পান। তাই ঢাকাকে তিলোত্তমা ও দৃষ্টিনন্দন করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা এবং একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রশংসা করার পাসাপাশি প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এটি সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্যই প্রযোজ্য, কারণ ধর্ম মানুষকে শালীনতা, দেশপ্রেম ও সৎ হতে শেখায়। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং অবহেলিত স্বতন্ত্র মাদ্রাসাসমূহের উন্নয়নে নজর দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক বিবেচনায় অযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে সঠিক যোগ্যতার ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করার অনুরোধ জানান।
উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে সুষম বণ্টনের দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও আর্থিক পদক্ষেপে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি ইনসাফ করা হয়নি। সংরক্ষিত আসনের সরকারি দলের সদস্যদের বড় অংকের ফান্ড বা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কাউকে তা দেওয়া হয়নি।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিএনপির ৩১ দফা এবং নির্বাচনী ইশতেহারে সুষম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আমরা সেই সুষম বণ্টনটাই প্রত্যাশা করি। রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে যেন সাধারণ জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন।
সরকারি অর্থ অপচয় এবং উন্নয়ন কর্মকা-ে নিজেদের নামফলক বসানোর প্রাচীন কালচার নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারি টাকায় কোনো ব্যক্তি বা রাজনীতিকের নামে স্থাপনার নামফলক বসানোর সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত। সরকারের পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট করে নামফলক পরিবর্তনের এই অপরাজনীতি দেশের জন্য চরম ক্ষতি ডেকে আনে। কারো যদি নিজের নামের মোহ থাকে, তবে তিনি নিজের টাকা ও জমিতে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে নাম দিতে পারেন, তাতে কারও আপত্তি থাকবে না। কিন্তু জনগণের টাকায় কোনো আত্মপ্রচার গ্রহণযোগ্য নয়।
দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা ‘দুর্নীতি’ নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানান ডা. শফিকুর রহমান। বর্তমান অর্থমন্ত্রীর পূর্ববর্তী সফল কর্মযজ্ঞের প্রশংসা করে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী একজন গতিশীল মানুষ এবং তিনি চাইলে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। তবে এর জন্য দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে বলেছেন দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবেন, সেখানে ডা. শফিকুর রহমান পরামর্শ দেন আপাতত দুর্নীতির হাত চেপে ধরুন এবং হাতকড়া পরিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন, যাতে আর কেউ জনসম্পদ লুটের সাহস না পায়।
জুলাই বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীকে অগ্রিম ধন্যবাদ জানান তিনি। একইসঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ নিয়মিত রেওয়াজ অনুযায়ী এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ বিশেষ ইনসেন্টিভ বা বোনাস প্রদানের জোর দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যের সমাপ্তি টানেন।
সড়ক নামকরণের বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
ঢাকার গুলশানে অবস্থিত কাতার দূতাবাসের সামনের সড়কটি কাতারের সাবেক আমীর মরহুম শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির নামে নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ জাতীয় সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
এ বিষয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ বিধি অনুসারে জাতীয় সংসদে অবিলম্বে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি গতকাল বুধবার একটি নোটিশ প্রদান করেছেন।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, কাতারের সাবেক আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি স্মরণে রাজধানীর একটি উপযুক্ত সড়কের নামকরণের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, “গতকালই (মঙ্গলবার) ঢাকা সিটি করপোরেশনে একটি উপযুক্ত সড়ক নির্ধারণ করে সেটিকে মরহুমের নামে নামকরণের জন্য এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে মৌখিকভাবে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আজ বিরোধীদলীয় নেতা বিষয়টি উপস্থাপন করার জন্য আমি আন্তরিকভাবে সরকারের পক্ষ তাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
কাতারের বর্তমান আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির বাবা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি গত ১২ জুলাই ৭৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতার শাসন করেন তিনি। আধুনিক কাতারের স্থপতি ধরা হয় তাকে।
কাতারের সাবেক আমীর মৃত্যুতে বুধবার বাংলাদেশ শোক পালন করছে এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনির্মিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের শোক ও সমবেদনা জানাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কাতারের দোহায় গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাবেক আমীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “মরহুম শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রতি সম্মান দেখিয়ে কাতারের জনগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছি। কাতার এমন একটি দেশ যারা আমাদের উন্নয়ন কর্মকা-ে দেশের অগ্রযাত্রায় আমাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে বা করছে। লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশিকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়ে কাতার বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থনৈতিক উন্নয়ন যাত্রাতেও অংশীদার। শুধু তাই নয়, এর ভেতরে যখন মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং কাতার নিজেও বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হওয়ার পরও আমাদের লাখ লাখ প্রবাসীকে তারা নিজেদের নাগরিকদের মত টেক কেয়ার করেছে। তাদের নিরাপত্তা তারা নিশ্চিত করেছে।”
এর আগে প্রদত্ত নোটিশে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, ‘শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি গত ১২ জুলাই ইন্তিকাল করেছেন, যা মুসলিম উম্মাহ এবং বাংলাদেশের জন্য গভীর শোকের বিষয়।’
জামায়াত আমীর আরও বলেন, কাতারের মরহুম আমীরের দূরদর্শী নেতৃত্বেই কাতার বিশ্বপরিসরে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও প্রভাবশালী দেশে পরিণত হয়েছে। এবং তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ-কাতার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সহযোগিতা, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং কাতারে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি প্রবাসীর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।
এই বাস্তবতায় তাঁর স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন ও দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকায় অবস্থিত কাতার দূতাবাস সড়কটি ‘শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি সড়ক’ নামে নামকরণের বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।