দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ আমাদের সবার। এক ইঞ্চি জায়গা কেন, একটি বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না।
গতকাল জুমআ বার সকালে নেত্রকোনা জেলা সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সংসদে আলোচনার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও সরকার তা গ্রহণ করেনি। সীমান্ত ইস্যুতে সংসদ থেকে একটি ঐক্যবদ্ধ বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন, যাতে স্পষ্ট হয়, দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ। প্রয়োজনে সীমান্তে বিজিবির পাশাপাশি সাধারণ মানুষও বুকভরা দেশপ্রেম নিয়ে দাঁড়াবে। বিজিবির হাতে থাকবে অস্ত্র, আর জনগণের হাতে থাকবে দেশপ্রেম। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস হবে না।
প্রতিবেশী দেশের প্রতি ইঙ্গিত করে আমীরে জামায়াত বলেন, বন্ধুত্বের দাবি করে কোনো দেশ অন্য দেশের মানুষের ওপর নিপীড়ন চালাতে পারে না। প্রকৃত বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীল আচরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কেউ সেই দায়িত্ব পালন না করলে দেশের স্বার্থ রক্ষায় জনগণও নীরব থাকবে না।
নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদী খননের কাজ করায় সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হয় না। এতে নদী ভরাট হচ্ছে, বর্ষাকালে বালুচর সৃষ্টি হচ্ছে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশের অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, অর্থবছরের প্রথম নয় মাস উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি ধীরগতির থাকে। অথচ শেষ দেড় থেকে দুই মাসে তড়িঘড়ি করে অধিকাংশ অর্থ ব্যয় করা হয়। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের গুণগত মান ও জবাবদিহি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নেত্রকোনার শিল্প সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাল, সিলিকা বালু, কৃষিভিত্তিক পণ্য ও মৎস্যসম্পদকে কেন্দ্র করে এ জেলায় শিল্পায়নের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তবে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দুর্নীতি, ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করতে হবে। তাহলেই দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
নেত্রকোনা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ছাদেক আহমেদ হারিছের সভাপতিত্বে এবং জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এবং প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মাহবুবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি ও নেত্রকোণা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা জামায়াতের ষান্মাসিক রুকন সম্মেলন: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেত্রকোণা জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা পাবলিক হলে ষান্মাসিক রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ৩ জুলাই নেত্রকোণা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি বদরুল আমীন ও জেলা সহকারী সেক্রেটারি জহিরুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় আয়োজিত এ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সাত শতাধিক পুরুষ-মহিলা রুকন অংশগ্রহণ করেন। জুমআ বার সকালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হযরত ইব্রাহিম (আ) যেভাবে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য তাঁর শপথ বাস্তবায়ন করেছেন, তেমনি রুকনদেরকেও মহান মনিবের সন্তুষ্টির জন্য তাদের গৃহীত শপথ বাস্তবায়নের প্রাণপণ চেষ্টা করতে হবে। যে ধনসম্পদ আল্লাহ আমাদেরকে দান করেছেন, তা দ্বীনের পথে বিলিয়ে দিতে কৃপণতা করা যাবে না। রুকন ভাই-বোনদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক জীবন ইসলামের আদর্শে গড়ে তুলতে হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, সংগঠনের প্রতিটি রুকন আদর্শিক আন্দোলনের অন্যতম ভিত্তি। তাই আত্মশুদ্ধি, কুরআন-হাদিস অধ্যয়ন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীলতা এবং জনকল্যাণমূলক কাজে আন্তরিকভাবে আত্মনিয়োগের মাধ্যমে সংগঠনের শক্তি আরও সুসংহত করতে হবে। তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এদেশের প্রায় ৭০% মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে রায় দিয়েছে। আমরা আশা করি সরকার জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে গণভোট বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।