মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন বর্তমানে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সর্বনিম্নের কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক রয়টার্স/ইপসোস এবং দ্য ইকোনমিস্ট/ইউগভ -এর যৌথ জাতীয় জরিপগুলোতে এই চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তার এই জনপ্রিয়তা হ্রাসের প্রধান কারণসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:

জ্বালানির মূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে মার্কিন নাগরিকদের অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘায়িত এই যুদ্ধের প্রতি সাধারণ মার্কিন জনগণের সমর্থন দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। অধিকাংশ নাগরিকই এই সামরিক সংঘাতকে "ভুল সিদ্ধান্ত" বলে মনে করছেন।

অভিবাসন নীতিতে বিতর্ক: সীমান্তে কঠোর দমন-পীড়নের ঘটনা এবং অভ্যন্তরীণ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর কারণে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জনপ্রিয়তাও রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে।

সাম্প্রতিক জরিপের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান:রয়টার্স/ইপসোস-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা ট্রাম্পের কার্যক্রমকে সমর্থন করেছেন, যা তার প্রথম মেয়াদের সর্বনিম্ন ৩৩ শতাংশ সমর্থনের খুব কাছাকাছি।

অন্যদিকে, দ্য ইকোনমিস্ট/ইউগভ-এর জরিপে প্রায় ৬১ শতাংশ আমেরিকান তার কাজের প্রতি অনাস্থা বা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অনুমোদন কমে মাত্র ২২ থেকে ২৬ শতাংশে এসে ঠেকেছে।জনপ্রিয়তার এই নজিরবিহীন ধস আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।