ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক থেকে বের হয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে বুধবার ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনা শেষে ১৭ জুন আমেরিকা ও ইরান এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। তবে বিশ্লেষকরা বলে আসছিলেন, ট্রাম্পের উপর বিশ্বাস রাখা কঠিন। ইরানও তার উপর আস্থা রাখতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত সেটাই ঘটলো। এর ফলে আবার যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি এখন ‘শেষ’। ট্রাম্প বলেছেন, আমি তাদের সঙ্গে আর কোনো লেনদেন করতে চাই না, তারা ‘জঘন্য’। তারা ‘অসুস্থ মানুষ’ এবং অসুস্থ মানুষেরা তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিবিসি ও আল জাজিরা এ খবর দিয়ে জানায়, ট্রাম্প আরও বলেন, তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে তারা সেটি ব্যবহার করতো। আমার বিবেচনায়, সব শেষ হয়ে গেছে। এদিকে হরমুজ প্রণালীতে হামলা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার পর ইরান সেখানে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবিতে অটল রয়েছে। এই ঘটনার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি নেতাদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় থাকা ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, গত মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি এখন শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন। ট্রাম্পের মতে, বুধবার সকালে মার্কিন সামরিক বাহিনী দক্ষিণ ইরানে হামলা চালিয়েছে যা ইরানের হামলার চেয়ে ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও ইরানের সেনাবাহিনী বাহরাইন ও কুয়েতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পাশাপাশি একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের বিধান এবং সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতার প্রতি সম্মান সম্পর্কিত চুক্তির অংশবিশেষ লঙ্ঘনের জন্য ওয়াশিংটনকে অভিযুক্ত করেছে।

ট্রাম্প আঙ্কারায় বলেন, তাদের (ইরানের) সঙ্গে আলোচনা করা মানে শুধুই সময়ের অপচয়। তারা ‘মিথ্যাবাদী’। তিনি জানান, আলোচকেরা চাইলে কথাবার্তা চালিয়ে যেতে পারেন, তবে তার মনে হয়, তারা শুধু সময়ই নষ্ট করছেন। এছাড়া ইরানের তেল বিক্রির সুবিধা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে দাম বেড়েছে বিশ্ববাজারে। এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের ভবিষ্যত কি সেটাই প্রশ্ন বিশ্লেষকদের। তবে আলোচকেরা কথাবার্তা চালিয়ে যেতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারো যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটন ইরানের সামরিক ও নৌ সক্ষমতার ওপর ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাবে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই এ সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, হরমুজ প্রণালীর উপকূলবর্তী এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কেশম দ্বীপে অন্তত ছয়টি, সিরিক এলাকায় সাতটি এবং গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের আশপাশেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা নিশ্চিত করেনি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, অভিযানে ইরানের ৮০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক নৌপথে হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করাই ছিল অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ‘গুরুতরভাবে লঙ্ঘন’ করেছে। তিনি বলেন, ইরানের তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল, দক্ষিণ ইরানে হামলা এবং ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন চুক্তির মৌলিক শর্ত ভঙ্গ করেছে। কালিবাফ বলেন, ‘ধমক ও চাপ প্রয়োগের যুগ শেষ। ইরান কখনোই জবরদস্তির কাছে নতি স্বীকার করবে না।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা ওয়াশিংটনের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তবে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর আগুন ধরে যায়। পরে আরো দু’টি জাহাজ হামলার শিকার হয়, যার অন্তত একটিতে ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন হামলার জবাবে ইরান জানিয়েছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে হামলা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা হ্রাস করার লক্ষ্যে হরমুজ প্রণালীর ভেতরে ও কাছাকাছি থাকা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি নৌযানেও হামলা চালানো হয়েছে বলে বলছে যুক্তরাষ্ট্র। এর কারণ হিসেবে সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানি হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে, ইরান বলেছে যে তাদের হরমুজগান প্রদেশ এবং মাহশাহর বন্দর শহরে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা “৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা” লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং এ সময় বাহরাইন ও কুয়েতে বিমান হামলার সাইরেন বেজে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ১৭ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির অধীনে ইরানকে তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া একটি ছাড়ও প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ বলার পর তেলের দাম ৬ শতাংশ বেড়েছে। নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার এশিয়ার লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

১০৬ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুদ্ধাবসানের ঘোষণা দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গত ১৭ জুন সঙ্ঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এর অধীনে দুই পক্ষই বৈরিতা বন্ধ করতে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দিতে সম্মত হয়। এই চুক্তির ফলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আগামী ৬০ দিন আরও গভীর আলোচনার পথ সুগম হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ বিরতি লংঘন সেই আশার গুড়ে বালি দিয়ে দিয়েছে। আর ট্রাম্পের সমঝোতা অবসানের ঘোষণা পুরো প্রক্রিয়াটিকে অতল গহব্বরের মধ্যে নিক্ষেপ করেছে।

লেবাননেও হামলা অব্যাহত : ইরান যুদ্ধের সময় লেবাননও ইসরাইলের ব্যাপক হামলার শিকার হয়। যুদ্ধ বন্ধে সেখানেও চুক্তি হয়েছে। হিজবুল্লাহর সহযোগী ও লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এই চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। আর যে কারণে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন তা ঘটে চলেছে। ৫ জুলাই দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা গ্রামে ইসরাইলি বিমান হামলা চালানো হয়। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে যে, ইসরাইলি যুদ্ধবিমান দক্ষিণ লেবাননে বুধবার রাতভর তিন দফা বিমান হামলা চালিয়েছে। এদিকে লেবাননের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনা আগামী সপ্তাহে ইতালির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার। জেরুজালেমে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুলের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সার বলেন, ‘দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে ইসরাইল, লেবানন এবং যুক্তরাষ্ট্র যে কাঠামোগত চুক্তিতে পৌঁছেছে সেই আলোচনাই আগামী সপ্তাহে রোমে অব্যাহত থাকবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন ইরানে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হওয়ায় সে সম্ভাবনা নস্যাত হয়ে যেতে পারে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেবে না এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রফতানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এমন প্রতিশ্রুতি থেকে বের হয়ে আসার ফলে আর সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ওই সমঝোতার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি কি আবার অজানা গন্তব্যে যাচ্ছে? আবার বড় ধরনের হামলা চালানো হবে? ট্রাম্প ইতিমধ্যে বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছেন। আর অনেক বিশ্লেষক হামলা চালানো হতে পারে বলে মনে করেন। এমন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এসব করছে যখন ইরান চার মাস আগে নিহত দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত। আর তার জানাজায় কোটি কোটি ইরানির অংশ গ্রহণ নতুন বার্তা দিচ্ছে। জানাজায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ যোগ দিয়েছেন। সাত দিনের এই কর্মসূচি এখনো চলমান রয়েছে।

যুদ্ধ বিরতি মেনে চলার আহ্বান পাকিস্তানের : ইরান যুদ্ধ বিরতি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান বুধবার মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং রাতভর পারস্পরিক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দপ্তর (এফও) উল্লেখ করেছে যে, “নতুন করে সংঘাত কারো স্বার্থেই নয়”। “পাকিস্তান সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের এবং এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে আরও ক্ষুণ্ন করতে পারে। এই অঞ্চলে শান্তির অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য অব্যাহত সম্পৃক্ততা, সংলাপ এবং কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই।” পাকিস্তান সকল পক্ষকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অধীনে নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি সমুন্নত রাখার আহ্বান জানাচ্ছে, যা এই অঞ্চল এবং এর বাইরে বোঝাপড়া, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং যৌথ সমৃদ্ধির এক স্থায়ী ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

আংকারায় ন্যাটো সম্মেলনে ভাষণে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানও উভয় পক্ষকে চুক্তি মেনে চলার আহবান জানান। তিনি কারো প্ররোচনায় সমঝোতা থেকে সরে আসা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে জার্মানি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে । আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল মঙ্গলবারের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জার্মানি হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন অপসারণে সহায়তা করতে প্রস্তুত। এখন এসব আহবান যুক্তরাষ্ট্র আদৌ মেনে চলে কি না সেটাই দেখার বিষয়।