নাইজেরিয়াকে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রস্তুতি শেষ করলো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। ড. মাগালহায়েস পেসোয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নাইজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে রবার্তো মার্তিনেজের দল। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে একটি মুহূর্ত। আর তা হচ্ছে সহজ সুযোগ নষ্ট করার পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ। প্রথমার্ধে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন পর্তুগাল অধিনায়ক। গোলমুখে প্রায় নিখুঁত অবস্থানে থাকলেও তার নেওয়া শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
৪১ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ডের প্রতিক্রিয়াও ছিল তাৎক্ষণিক। হতাশায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এমন একটি সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় নিজের বিরক্তি লুকানোর কোনো চেষ্টাই করেননি। সাধারণত এ ধরনের সুযোগ খুব কমই নষ্ট করেন তিনি। রোনালদোর সেই বিরল ভুল সত্ত্বেও ২৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। পেদ্রো নেতোর শক্তিশালী বাঁ-পায়ের শটে জালের দেখা পায় ইউরোপের দলটি। তবে বিরতির আগে সমতায় ফেরে নাইজেরিয়া। ৩৭তম মিনিটে আকোর অ্যাডামস গোল করে তার দলকে সমতায় ফেরান।
বিরতির পর আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় পর্তুগাল। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওয়ের গোলে জয় নিশ্চিত হয় তাদের। ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে নেওয়া তার নিখুঁত শট নাইজেরিয়ার গোলরক্ষক মাদুকা ওকোয়েকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই ম্যাচে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করেন প্রধান কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। একই সঙ্গে বিভিন্ন কৌশলও পরীক্ষা করে দেখেন তিনি। রোনালদোকে প্রায় ৬৫তম মিনিটে তুলে নেয়া হয় এবং তার জায়গায় নামেন গনসালো রামোস। বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির কথা মাথায় রেখে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের শারীরিক চাপ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তবে ম্যাচের ফলের বাইরে রোনালদোর আলোচিত গোল মিস নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ৪১ বছর বয়সে পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখনও আগের মতো কার্যকর আছেন কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও দলের ভেতরে তার গুরুত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে শিরোপার লড়াইয়ে নামতে যাওয়া পর্তুগালের আক্রমণের প্রধান ভরসা এখনও রোনালদোই। বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান এবং কঙ্গো। আগামী ১৭ জুন হিউস্টনে কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পর্তুগিজরা। এরপর তারা মুখোমুখি হবে উজবেকিস্তানের এবং গ্রুপপর্ব শেষ করবে কলম্বিয়ার বিপক্ষে।