চেনাছন্দে ফিরে চলমান বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে বেশ সমালোচনায় পড়ে গিয়েছিল কার্লো আনচেলত্তির দল। দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যাথিয়াস কুনহার জোড়া এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গোলে হাইতির বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সেলেসাওরা। শনিবার ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে মাথেউস কুনিয়া আর ভিনিসিউস জুনিয়রের ঝলকে সহজ জয় পেয়েছে ব্রাজিল। অপরদিকে প্রথম দল হিসেবে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে হাইতির।
‘সি’ গ্রুপের দুই ম্যাচ শেষে মরক্কোর সমান ৪ পয়েন্ট পেলেও গোলব্যবধানে (+৩) এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে এখন ব্রাজিল। আগের ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে থাকা মরক্কো (+১) এখন দুই নম্বরে নেমে গেছে। হাইতির বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা স্কটল্যান্ড ৩ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে তিনে। ফলে শেষ ম্যাচে পয়েন্ট পেলেও টানা দুই ম্যাচ হারা হাইতির আর শীর্ষ তিনে ওঠার কোনো সুযোগ নেই।
ম্যাচের শুরু থেকেই ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৮৭ নম্বরে থাকা হাইতির রক্ষণভাগে চাপের পাহাড় তৈরি করে ব্রাজিল। যদিও ১২ মিনিটে রাফিনিয়ার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। বার্সেলোনা তারকা মিনিট দশেক পর গোলের সহজ সুযোগও হাতছাড়া করেন। সব হতাশা ভেঙ্গে ২৩ মিনিটে ডেডলক ভাঙ্গেন ম্যাথিউস কুনহা। ভিনিসিয়ুসের শট হাইতি গোলরক্ষক জনি প্লাসিড ঠেকালেও ফিরতি বলে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড তারকা।
৩৬ মিনিটে আবারও ভিনিসিয়ুসের ঝলক। রিয়াল মাদ্রিদ তারকার বাড়ানো ডিফেন্সচেরা থ্রু পাস থেকে বাঁ পায়ের দারুণ শটে কুনহা নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন। এরপরেই ব্রাজিলের জন্য কিছুটা দুঃসংবাদ বয়ে আনে রাফিনিয়ার ইনজুরি। ৪০ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে, বদলি হিসেবে নামেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ উইঙ্গার রায়ান।
সতীর্থের চোটের দুঃসংবাদ নিয়ে বিরতির আগেই ব্যবধান ৩-০ করেন স্বয়ং ভিনিসিয়ুস। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের ৩ মিনিটে গোলরক্ষক জনি প্লাসিডের দুই পায়ের ভেতর দিয়ে তিনি বল পাঠিয়ে দেন জালে।
বিরতি থেকে ফিরে ব্রাজিল একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত রাখে হাইতি রক্ষণকে। দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতে অফসাইডে আরও একটি গোল বাতিল হয় সেলেসাওদের। ৬৩ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পায় হাইতি। কর্নার থেকে আসা বলে হেড করেন জেনরিকনার বেলেগার্ড, অসাধারণভাবে সেটি ঠেকিয়ে দেন ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। সেখান থেকে ফিরতি গোল হতে পারত, সে যাত্রায় বাঁচিয়ে দেন মার্কুইনহোস।
৬৯তম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শট বার পোস্টে লেগে ফিরে আসে, যদিও রেফারি সেটি পরে অফসাইড দেন। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে এন্দ্রিকের শট জালে গেলে অফসাইডে সেটিও বাতিল হয়। ম্যাচের ৯০ মিনিট শেষে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে ব্রাজিল, মার্তিনেল্লির পাস জালের জড়াতে ব্যর্থ হন দানিলো সান্তোস। সি গ্রুপে প্রতি দল ২টি করে ম্যাচ খেলেছে। ১ জয় এবং ১ ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে শীর্ষে ব্রাজিল, একই সমীকরণে দুইয়ে আছে মরক্কো। ১টি করে জয় এবং হারে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে স্কটল্যান্ড। কোন জয় না পাওয়া হাইতি বিনা পয়েন্টে তলানিতে।