আসন্ন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান খান। ‘সেবা, সততা ও তারুণ্যের শক্তিতে গড়ি নতুন শ্রীপুর’-এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে তিনি নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। শিক্ষা, সামাজিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ মোস্তাফিজুর রহমান খান শ্রীপুর উপজেলাবাসীর দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের চিনাশুখানিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান খান। তার পিতা মো. গিয়াস উদ্দিন খান এবং মাতা পরিনা বেগম। বর্তমানে তিনি চিনাশুখানিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

১৩ জুলাই সোমবার বিকেলে দৈনিক সংগ্রামের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নির্বাচনী ভাবনা, শ্রীপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলেন।

দৈনিক সংগ্রাম: আসন্ন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার মূল উদ্দেশ্য কী?

মোস্তাফিজুর রহমান খান: মানুষের সেবা করার ইচ্ছা ও দায়িত্ববোধ থেকেই আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। জনপ্রতিনিধিত্ব আমার কাছে কোনো ব্যক্তিগত অর্জনের বিষয় নয়; এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ। শ্রীপুরের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে চাই।

দৈনিক সংগ্রাম: আপনার নির্বাচনী মূল প্রতিশ্রুতি কী?

মোস্তাফিজুর রহমান খান: আমার নির্বাচনী প্রত্যয় হলো-‘সেবা, সততা ও তারুণ্যের শক্তিতে গড়ি নতুন শ্রীপুর।’ আমি মনে করি, একটি সুন্দর উপজেলা গড়তে হলে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। নিরাপদ পরিবেশ, সহজ নাগরিক সেবা, জনবান্ধব কার্যক্রম এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমার প্রধান অঙ্গীকার।

দৈনিক সংগ্রাম: শ্রীপুর উপজেলার উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিতে চান?

মোস্তাফিজুর রহমান খান: শ্রীপুর একটি সম্ভাবনাময় উপজেলা। এখানে শিল্প, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে হবে। শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক উন্নয়ন, তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানকে গুরুত্ব দিতে চাই। তরুণ প্রজন্মের জন্য খেলার মাঠ এবং বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।ইনশাআল্লাহ, শ্রীপুরের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব।

দৈনিক সংগ্রাম: নিরাপদ শ্রীপুর গঠনের বিষয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

মোস্তাফিজুর রহমান খান: একটি এলাকার উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হচ্ছে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ। জনগণের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া এবং সবার জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরিতে কাজ করতে চাই।

দৈনিক সংগ্রাম: আপনার নির্বাচনী স্লোগানে ‘তারুণ্যের শক্তি’র কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে কী বোঝাতে চাচ্ছেন?

মোস্তাফিজুর রহমান খান: তরুণরা একটি সমাজের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের মেধা, যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারলে উন্নয়ন আরও গতিশীল হয়। তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

দৈনিক সংগ্রাম: জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার কাজের ধরন কেমন হবে?

মোস্তাফিজুর রহমান খান: জনপ্রতিনিধির প্রথম পরিচয় হচ্ছে তিনি জনগণের সেবক। আমি নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে শ্রীপুরের সব মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করব। জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে তাদের সমস্যা ও প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেব।

দৈনিক সংগ্রাম: আপনার শিক্ষা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাই।

মোস্তাফিজুর রহমান খান: আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.এস ও এম.এস.এস (সমাজকল্যাণ) ডিগ্রি অর্জন করেছি। পাশাপাশি কামিল (হাদিস) সম্পন্ন করেছি। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছি। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছি। রাজনৈতিক জীবনে আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এর আগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সহ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি।

দৈনিক সংগ্রাম: শ্রীপুরবাসীর উদ্দেশে আপনার বক্তব্য কী?

মোস্তাফিজুর রহমান খান: আমি শ্রীপুরের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করছি। জনগণের সমর্থন পেলে শ্রীপুরকে একটি নিরাপদ, উন্নত, সুশৃঙ্খল ও জনকল্যাণমুখী উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের আস্থা ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের শ্রীপুর নির্মাণ করা সম্ভব।