প্রতিবেশী বন্ধু দেশের ভূমিকা এমন হবে কেন? তারা কেন বারবার ‘পুশইনের’ আগ্রাসন চালাবে? অবৈধ মানুষদের একদেশ থেকে আরেক দেশে ফেরত পাঠানোর তো সুস্পষ্ট নীতিমালা আছে। ভারত তো সেসব মান্য করছে না। পুশইনের পেছনে তো তাদের গ্রহণযোগ্য কোনো যুক্তি নেই। তাহলে ভারত এমন কর্ম অব্যাহত রাখছে কোন বিবেচনায়? ভারত বড় দেশ, এটা কি কোনো যুক্তি হতে পারে? ভারতের চাইতেও শক্তিতে বড় দেশ আছে পৃথিবীতে। তাদের মাৎস্যন্যায়ের বিপরীতে ভারত কি বলবে? বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে ভারত থেকে লোকজনকে ঠেলে বাংলাদেশে পাঠানো তথা পুশইনের চেষ্টা চলছেই। গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনগণ সেই চেষ্টা প্রতিহত করেন।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পুশইন বন্ধে বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে সীমান্ত সম্মেলনেও বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পুশইন নিয়ে দিল্লিকে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাতে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। শুক্রবার দিবাগত রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে ১৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির বাধার মুখে তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ। এদিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে ক্ষেতের আইলে রাত কাটালো পুশইন চেষ্টার শিকার ১২ নারী, শিশু ও পুরুষ। এ নিয়ে শনিবার বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও রাত পর্যন্ত বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নেয়নি। লালমনির হাটের হাতীবান্ধায় বনচৌকি সীমান্তে পুশইনের শঙ্কায় টহল জোরদার করেছে বিজিবি। শুক্রবার রাতে সীমান্তের ওপারে কাঁটাতারের বেড়ার ভেতরে রাতে হঠাৎ আলো বন্ধ ও লোকজনের আনাগোনা বাড়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর সীমান্ত এলাকায় বিজিবি তাদের টহল বৃদ্ধি করে।

প্রশ্ন হলো, উদ্বেগ বৃদ্ধি করা কি বন্ধু রাষ্ট্রের কাজ হতে পারে? নিয়ম-নীতি লংঘন করা কি কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হতে পারে। তাহলে ভারত পুশইন তৎপরতার মাধ্যমে কি বার্তা দিতে চাইছে? আমরা জানি, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে নিয়মনীতির আলোকে যৌক্তিক আচরণ করাই সঙ্গত। বিষয়টি ভারত না জানার কথা নয়। বাংলাদেশ তো ভারতের সাথে সঙ্গত আচরণ করছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, ভারত থেকে পুশইন বন্ধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দিল্লিকে ইতিমধ্যে ১৩টি চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যে কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অবৈধ নাগরিক কিংবা তাদের অবৈধ নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার জন্য বা ফেরত পাঠানোর জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা আছে। আমরা আশা করবো, ভারত সরকার সেই নীমিতালা অবলম্ব করবে।’ বাংলাদেশ তো নীতি ও যুক্তির কথা বললো। প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রের তো সে পথেই চলার কথা। এর ব্যতিক্রম হলে আমরা উপলব্ধি করবো, ভারত সঠিক পথে নেই। এখন দেখার বিষয় হলো, ভারত কোন পথে যায়। আর যথাবিষয়ে যথাপদক্ষেপ গ্রহণ করাই হবে বাংলাদেশের সঙ্গত।