জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়। সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও সম্মানহানির অপচেষ্টা চলা উচিত নয়।

গতকাল রোববার সকালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সফরের শুরুতে নগরীর বিপ্লব উদ্যানের জমায়েতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপি সরকারের দুই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমের পদত্যাগ দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই দুই উপদেষ্টা গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে রয়েছেন। কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, বরং গণঅভ্যুত্থানকে প্রতিনিধিত্ব করতে তারা সরকারের অংশ। তাদের নির্দিষ্ট কোনো দলীয় পরিচয়ে আখ্যা দেওয়ার যে প্রচেষ্টা, তা আমরা নিন্দা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে সম্মানের সঙ্গে দেখা উচিত। তাদের অহেতুক রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আক্রমণ করা উচিত নয়। প্রতিনিয়ত তাদের এনসিপির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা আমরা ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করি।’

জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা শক্তির মধ্যে বিভেদের বিষয়ে হাসনাত বলেন, ‘রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবেই। সংকটকালে বিভেদ অতিক্রম করে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই আমাদের জাতীয় চরিত্র। আমরা অতীতেও যেকোনো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছি, এখনও হচ্ছি। গণঅভ্যুত্থানের সব দল, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এবং দেশপ্রেমিক জনগণ মিলিতভাবে এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করছে।’

শনিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা দ্রুত বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানিয়েছি। দেশের জনগণ কী ভাবছে, তা জানতেই এ সফর। চট্টগ্রাম দক্ষিণ থেকে শুরু করেছি, সারা দেশে মানুষের কাছে যাব।’

সাংগঠনিক সফরে হাসনাতের সঙ্গে ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও মো. আতাউল্লাহ এবং সংগঠক আরমান হোসেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণের মোট ৯টি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এসব স্থান হলো: কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক, আনোয়ারার চাতুরী চৌমুহনী, বাঁশখালীর উপজেলা চত্বর, সাতকানিয়ার কেরাণীহাট, লোহাগাড়ার আমিরাবাদ, দোহাজারি পৌরসভা, চন্দনাইশ পৌরসভা, পটিয়া কলেজ গেইট এবং বোয়ালখালীর ফুলতল।